আবার সে চাহিদাকে সামনে রেখে উৎপাদন সক্ষমতাও সম্প্রসারণ হয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। ফলে শিল্পটি এখন অতিরিক্ত সক্ষমতার সংকটে ভুগছে।

দেশের সিমেন্টের মোট উৎপাদন সক্ষমতা আট কোটি টনেরও বেশি। যদিও প্রকৃত চাহিদা এর তুলনায় অনেক কম। ফলে অধিকাংশ কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ভোক্তার চাহিদায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চাহিদার এ দুর্বলতার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রফতানি আয় হ্রাসকে খাতটির জন্য বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং বেসরকারি নির্মাণ খাতে স্থবিরতা সিমেন্টের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে প্রভাবিত করেছে। বিগত সময়গুলোয় দেশের সিমেন্ট খাতে প্রবৃদ্ধির বড় একটি চালিকাশক্তি ছিল সরকারি মেগাপ্রকল্পগুলো। বর্তমানে এসব প্রকল্পের সংখ্যা কমে আসায় শিল্পটির ওপর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি ও কাঁচামাল—বিশেষ করে ক্লিংকারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাতটিতে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার এবং ব্যাংক ঋণের চাপ যুক্ত হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার সংকটকে আরো প্রকট করেছে সিমেন্টের রফতানি হ্রাস। বিগত অর্থবছরে খাতটির রফতানি আয় কমেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান বাজার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রতিযোগিতাও এখন আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপে পণ্যটির বাজার থাকলেও সেগুলোর পরিসর তুলনামূলকভাবে ছোট। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর জন্য সিমেন্ট রফতানিতে এখনো শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়নি।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প উচ্চ কর ও জটিল শুল্ক কাঠামোর চাপে রয়েছে। ক্লিংকারে ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, উচ্চ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং আমদানীকৃত কাঁচামালে অতিরিক্ত মূল্যায়নের ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এজন্য এআইটি কমিয়ে সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ করা, ক্লিংকারে নির্দিষ্ট টনভিত্তিক শুল্ক নির্ধারণ এবং প্রকৃত ইনভয়েস মূল্যে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। লাইমস্টোনে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার ও সব কোম্পানির জন্য একক, ট্যারিফভিত্তিক ভ্যাট কাঠামো চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। তাদের মতে, কর ব্যবস্থা সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করা গেলে ব্যয় কমবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং খাতটি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।