বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে কাচ ও কাচ ব্যবহৃত পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। ঘর ও অফিসের আসবাবপত্র ছাড়াও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী হিসেবে কাচের ব্যবহার বাড়ায় এ শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি। নতুন শিল্পটি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ায় কমেছে আমদানি। বিশেষ করে কাঁচামাল বালির আমদানি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি ছাড়াও অতিরিক্ত শুল্ক ও নিয়ন্ত্রিত আয়করের কারণে কমছে আমদানি।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে একসময় প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিনির্ভর ছিল। এখন সে চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশে উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার কাচ বিক্রি হয়। নির্মাণ, আসবাবপত্র ও প্যাকেজিং শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এ বাজার দ্রুত বাড়ছে। দেশের কাচ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের বাজারের ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া আকিজ বশির গ্রুপ, এবি গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বাজারে বাকি কাচ সরবরাহ করে।

গ্লাস আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গ্লাস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন ৬০০ টন বা ছয় লাখ বর্গফুট কাচের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৫০০ টন বা পাঁচ লাখ বর্গফুট বিভিন্ন ধরনের কাচ। মাসিক অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা ২৫-৩০ হাজার টন। বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার টনের বেশি। কোম্পানি ও গ্লাসের মান, ধরনভেদে দামের ভিন্নতা আছে। দেশের বাজারে বার্ষিক গ্লাস বিক্রি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার। দেশীয় কারখানাগুলোর মধ্যে আকিজ ও নাসির গ্রুপ প্রতিদিন ২০০ টন করে মোট ৪০০ টন কাচ উৎপাদন করে। বাকি ১০০ টন উৎপাদন হয় পিএইচপি ফ্লোটিং গ্লাস ও এবি গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজে। গ্লাস আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায়, কারণ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও রফতানি সামান্য পরিমাণ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

তবে দেশে উৎপাদন বাড়লেও আমদানি কমায় দেশে দাম বাড়ছে গ্লাসের। এছাড়া আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক ও নিয়ন্ত্রিত আয়করের ফলে আমদানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এ শিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের আমদানির ওপর নির্ভরতা, উচ্চ জ্বালানি খরচ এবং অতি উৎপাদন বা ওভারক্যাপাসিটি।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, শুল্ক পদ্ধতির কারণে আমদানিকারকদের যে খরচ হয় তা তুলে আনা যায় না। শুল্ক ব্যবস্থার সংস্কার, শিল্পের বিকাশে গুণগত মান বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তুলছেন উদ্যোক্তারা। তাহলে আধুনিক রিফ্লেকটিভ গ্লাস এবং উন্নতমানের কাচ উৎপাদনের ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।