দেশে খাতটি এখনো অনেক ছোট হলেও সরকারি সহায়তায় ও বেসরকারি উদ্যোগে এর পরিধি বাড়তে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও প্রবাসীনির্ভর অর্থনীতির কারণে বিমান পরিবহন খাতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

কর্মসংস্থানের দিক থেকে এভিয়েশন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ খাতে পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী, বিমানবন্দরকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে পর্যটন, হোটেল ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ সরকার এভিয়েশন খাত থেকে বিভিন্ন উপায়ে রাজস্ব আয় করে। বিমানবন্দর ব্যবহার ফি, যাত্রীসেবা চার্জ, টিকিটের ওপর কর, কার্গো শুল্ক, জ্বালানি কর ইত্যাদি সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। যদিও এ আয়ের পরিমাণ অন্যান্য বড় খাতের তুলনায় এখনো সীমিত, তবু এটি ক্রমাগত বাড়ছে। তবে এটি ভবিষ্যতে আরো বড় আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও কার্গো সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশ যদি একটি আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

তবে খাতটির উন্নয়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবলের অভাব, উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এ খাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এভিয়েশন শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।