প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে এটি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। স্থানীয় উৎপাদনের ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।
তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মতো আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এ সংকট উত্তরণে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পূর্ণাঙ্গ পণ্য আমদানিতে শুল্কবৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা জরুরি। বর্তমানে কিছু উপকরণের দাম শুল্কের কারণে প্রায় ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় বাধা। আমদানি শুল্ক কমালে একদিকে উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে, যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প ঋণের সুদের হার কমানো প্রয়োজন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে রফতানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বাড়ানো সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলে খাতটি আরো গতিশীল হবে।
ইলেকট্রনিকস শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ অর্থাৎ কাঁচামাল ও উপকরণ সরবরাহকারী খাতের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কর অবকাশ সুবিধা ও কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি-নীতি প্রণয়ন করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়বে।
সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে ইলেকট্রনিকস শিল্প দেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের মতোই একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে। তাই এ খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ও দেশীয় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতিনির্ধারকদের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।










