বছরের পর বছর যারা স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারকে কর দিচ্ছে, তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে করজাল বাড়ানো এবং একটি ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাজেট ও অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো যারা কর ফাঁকি দেয় বা অনিয়ম করে, তারাই নানাভাবে সুবিধা ও সামাজিক স্বীকৃতি পাচ্ছে। অন্যদিকে সৎ করদাতারা অনেক সময় যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজেটে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, যেখানে নিয়মনীতি মেনে চলা ব্যবসায়ীরা প্রকৃত স্বীকৃতি পাবেন। সমাজের সামনে ‘রোল মডেল’ হিসেবে সৎ ব্যবসায়ীদের উপস্থাপন করা হলে তা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বাজেট কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব নয়, এটি হতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও কর্মসংস্থানমুখী একটি পথ নকশা বা রূপরেখা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণরা দেশ থাকতে অনীহা প্রকাশ করছে, কারণ তারা সামাজিক সম্মান ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কিত। শিল্প ও বিনিয়োগের স্বার্থে এ আস্থার সংকট দূর করা বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে আমাদের সন্তানরা বিদেশে না গিয়ে দেশেই সম্মানজনক পেশা ও ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পায়।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, নতুন বাজেটে সরকার অর্থনীতির প্রকৃত অংশীদারদের প্রতি আরো আন্তরিক ও সহনশীল হবে।

কেবল কিছু কর সুবিধা প্রদানই যথেষ্ট নয়, বরং যারা এ দেশের অর্থনীতিতে সত্যিকারের অবদান রাখছে, তাদের সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা গেলে তবেই বাজেট সফল হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রেখে যাওয়া সম্ভব হবে।