রফতানিমুখী পোশাক শিল্পে রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে করহার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগের মতো শূন্য দশমিক ৫ শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য ও পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রির লাভ, সাব-কন্ট্রাক্ট আয় বা অন্যান্য ব্যয়কে ৩০ শতাংশ হারে করযোগ্য হিসেবে বিবেচনা না করে করপোরেট কর ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে শিল্পের ওপর করের চাপ বাস্তবসম্মত পর্যায়ে আসবে।
সাব-কন্ট্রাক্ট খাতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সেটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা হলে এ খাত আরো গতিশীল হবে।
বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধে ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করা হলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে। একইভাবে ডিডিপি (ডেলিভারড ডিউটি পেইড) পদ্ধতিতে রফতানির ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসিত সম্পূর্ণ রফতানি মূল্যের ওপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার শিল্পকে নগদপ্রবাহ সংকট থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। এছাড়া রফতানিমুখী শিল্পে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর অব্যাহতি এবং ভাড়া পরিশোধে উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করাও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।
রিসাইকেল ফাইবার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উৎপাদিত ফাইবার সরবরাহে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দিলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা, উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন কাঁচামালকেও ব্যবহারযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং নতুন কারখানার জন্য উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে ছয় মাসের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয়া—এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একইভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি-সংক্রান্ত তথ্য রফতানির পর সংযোজনের অনুমতি, বিভিন্ন কমিশনারেটের আওতায় সাব-কন্ট্রাক্ট কার্যক্রমে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা এবং এইচএসকোড-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে অনলাইন ব্যবস্থাপনা চালু করা সময়ের দাবি।










