সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এ খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রড ও সিমেন্টের উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আবাসন খাত। এর সঙ্গে যখন আগের ড্যাপের সীমাবদ্ধতা যুক্ত হয়, তখন সমস্যাটা আরো জটিল হয়ে ওঠে। কম ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’র কারণে প্রকল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতা নষ্ট হয়েছে। এতে জমির মালিক ও ডেভেলপার উভয় আবাসন নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে বিনিয়োগ কমার পাশাপামি কর্মসংস্থানেও চাপ বেড়েছে।
সংশোধিত ড্যাপ (২০২২-৩৫) ও নতুন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এ খাতে নতুন করে আশার জায়গা তৈরি করেছে। এতে ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোয় নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে পরিকল্পনা ছাড়া উচ্চতা বাড়ানো মানে চাপ বাড়ানো। রাস্তা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ড্রেনেজ—এ মৌলিক অবকাঠামো যদি সমানতালে উন্নত না হয়, তাহলে শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। তাই ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ বৃদ্ধিকে একমাত্র সমাধান ভাবা ভুল হবে।
আবাসন খাতকে গতিশীল করতে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য ‘ওয়ান-স্টপ’ হাউজিং প্রকল্প অনুমোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। যেখানে সব অনুমোদন প্রক্রিয়া একসঙ্গে সম্পন্ন হবে। এতে গ্রাহকদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হাউজিং প্রকল্পের জন্য (ল্যান্ড প্রজেক্ট) এ, বি, সি গ্রেডিং পদ্ধতিও চালু থাকবে।
আবাসন খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। জিডিপিতে এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে এবং কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শিল্পখাত সব জায়গায়ই এর প্রভাব বিস্তৃত। এখন দরকার সমন্বিত নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা। এজন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করতে পারলে আবাসন খাত আবারো অর্থনীতির শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।










