বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেও তৈরি পোশাক শিল্পকে টেকসই করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো উৎসে কর-সংক্রান্ত। বর্তমানে রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য ১ শতাংশ উৎসে কর হ্রাস করে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং এটিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করছি। এছাড়া পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়াতে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। অ্যাসেসমেন্টের সময় সম্পদের বিক্রয়লব্ধ মুনাফা, সাব-কন্ট্রাক্ট আয় এবং বিবিধ খরচের ওপর প্রচলিত হারের পরিবর্তে ১২ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স আরোপের দাবি রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। জ্বালানি আমদানি থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত শুল্ক ও ভ্যাটের যে বহুস্তর রয়েছে, তা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জামাদি (যেমন সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম) আমদানিতে বর্তমান উচ্চ শুল্ক (২৮-৬১ শতাংশ পর্যন্ত) হ্রাস করে মাত্র ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিহারে ৫ শতাংশ উৎসে কর কর্তন থেকে অব্যাহতি এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় ইটিপি কেমিক্যাল এবং কারখানার নিরাপত্তায় নষ্ট হওয়া অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে রেয়াতি হারে শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রত্যাশা করছি।

সামগ্রিকভাবে আমরা এমন একটি বাজেট চাই, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ব্যবসার খরচ কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে। সরকার আমাদের এ যৌক্তিক দাবিগুলো আমলে নিলে পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।