বর্তমানে শিল্প খাত জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির মতো নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ বাস্তবতায় শিল্প খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে এনবিআরের পক্ষ থেকে বাস্তবমুখী ও শিল্প সহায়ক করনীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। ২০৩৪ সালে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে রফতানি বহুমুখীকরণ এবং ধারাবাহিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে বাজেটে গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আসন্ন বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পের শুল্ক বৈষম্য পরিহার করতে হবে। মূলধনি যন্ত্র হিসাবে শুধু কাস্টমস ডিউটি ১ শতাংশ কর দিয়ে যে পণ্য আমদানি হয়, সেই একই পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে এটি, এআইটি ও ভ্যাট বাবদ প্রায় ৩০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পৃথক করহার ও টার্নওভার কর হ্রাস করা প্রয়োজন। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি। মাইক্রো ও কুটির শিল্পের ইউটিলিটির ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া জরুরি।

আয়কর আইনের ৫৫(দ) ও ৫৬ ধারা সংশোধন করে ব্যবসায়িক ও অব্যবসায়িক খরচের করহারের যৌক্তিকীকরণ প্রয়োজন। এছাড়া সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ এবং রফতানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। ব্যবসায় ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম করের বিধান রহিত করা প্রয়োজন। ধারা ১৪৭ অনুযায়ী উৎসে কর যাচাইকরণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং নিয়মিত কর নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়া বছরগুলোকে এর আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি।