ডিজিটাল রূপান্তর, রফতানি আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান বাড়াতে উদ্যোক্তারা বেশকিছু বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তুলে ধরছেন।
প্রথমত, কর কাঠামো সহজ ও সহনীয় করা আইটি খাতের প্রধান দাবি। স্টার্টআপ ও সফটওয়্যার কোম্পানির জন্য ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানো প্রয়োজন। এতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি করপোরেট করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশও রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। ডেটা সেন্টার, ক্লাউড সার্ভিস, সাইবার নিরাপত্তা ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট বিস্তারে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। আগের বাজেটগুলোয় আইসিটি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল, যা আরো সম্প্রসারণের দাবি রাখে।
তৃতীয়ত, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম জোরদার করা দরকার। আইটি খাতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং সাপোর্ট ও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে প্রণোদনা বাড়ানো হলে বৈদেশিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
চতুর্থত, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ফান্ডিং সুবিধা ও সহজ ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা স্থবির থাকায় প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনা দেয়া আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবশেষে, ই-গভর্ন্যান্স সম্প্রসারণ ও সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন বাড়ালে আইটি খাতের অভ্যন্তরীণ বাজারও প্রসারিত হবে। সার্বিকভাবে একটি উদ্ভাবনবান্ধব, বিনিয়োগ-সহায়ক ও দক্ষতানির্ভর বাজেটই আইটি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।










