ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের অবদান মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। এ তালিকার মোট ১৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম।
তবে এর মধ্যেও এ খাতে সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশে ২ হাজার ৬০০টিরও বেশি আইটি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার কারণে সময় ও ভোগান্তি কমেছে।
২০২৪ সালের আইএমএফের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি সূচকে ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৩তম, যেখানে ভারত, শ্রীলংকা ও ভুটান এগিয়ে রয়েছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবসহ নানা বাধা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় বৈশ্বিক মানে পৌঁছতে পারবে এবং রফতানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে আইটি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো দরকার। এতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস ও অন্যান্য প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ তখন এসব পণ্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এত দক্ষ আইটি মানবসম্পদও তৈরি হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে সফটওয়্যার, আইটি সার্ভিস ও স্টার্টআপ খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণে শুল্ক কমানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তাদের জন্য সহজ ব্যবসা পরিবেশও তৈরি করা জরুরি।
দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় একটি অংশ অবৈধভাবে আমদানি করা হয়। এতে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারায়। মূলত উচ্চ শুল্ক হারের কারণেই অনেক ব্যবসায়ী অবৈধপথে আমদানি করতে বাধ্য হয়। এ বিষয়টি সমাধান করা গেলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সহজে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে।










