প্রাথমিক আলোচনায় সম্প্রসারণমূলক বাজেট ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব লক্ষ্যের ইঙ্গিত থাকলেও প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং তা মধ্যমেয়াদি রাজস্ব শৃঙ্খলার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তার ওপর।

রাজস্ব আহরণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা। ফলে আস্থা জোরদার হবে কেবল উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বরং সুসংহত ও পূর্বানুমানযোগ্য সংস্কারের মাধ্যমে, যা করের আওতা বাড়াবে, কমপ্লায়েন্স উন্নত করবে এবং অনিশ্চয়তা কমাবে। বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা স্বাধীন নীতিনির্ধারক মহলও দীর্ঘদিন ধরে এ পন্থার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে কর সংস্কার তখনই কার্যকর, যখন তা করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে ন্যায্যতা, সরলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার স্পষ্ট। করের আওতা বাড়ালে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং রাজস্ব আদায়ের স্থিতিশীলতা বাড়বে। একইভাবে ন্যূনতম কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ জরুরি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠান (এসএমই) ও ভ্যালু-চেইন অংশীদারদের সুরক্ষার জন্য। যাদের করের দায় অনেক সময় প্রকৃত লাভের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়ায়।

অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কম করহারসহ ক্যাশলেস লেনদেনে প্রণোদনা পুনঃপ্রবর্তন করা প্রয়োজন, যা দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ব্যবসাসংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট রিবেটের সুযোগ সম্প্রসারণ করলে আরো বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি মূল্য ঘোষণার বাধ্যবাধকতা ও সীমিত রিবেট শর্তের মতো কমপ্লায়েন্স জটিলতা দূর করা গেলে আধুনিক ভ্যাট কাঠামোর কার্যকারিতা আরো জোরদার হবে।

এছাড়া আমদানিনির্ভর শিল্পের ক্ষেত্রে শুল্ক নির্ধারণে প্রকৃত ইনভয়েস মূল্য নিশ্চিত করা হলে বিরোধ কমবে এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড