এর মূল বিষয়টি শুধু একটি পেশার সম্প্রসারণ নয়, বরং স্বচ্ছতা, নিয়মকানুন প্রতিপালন এবং অর্থনৈতিক সুশাসনের স্তম্ভগুলোকে শক্তিশালী করা।
সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হবে যোগ্য পেশাদারদের দ্বারা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী রক্ষণাবেক্ষণকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর প্রণোদনা চালু করা। যখন কোম্পানিগুলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের নিয়োগের ফলে একটি সুস্পষ্ট রাজস্ব সুবিধা—দেখতে পায়, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই উন্নততর আর্থিক শৃঙ্খলাকে উৎসাহিত করে। ফলে সার্বিক কর প্রতিপালন সংস্কৃতি উন্নত হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।
এসএমই খাতও একটি বড় সুযোগ তৈরি করে। ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে পেশাদার হিসাবরক্ষণ পরিষেবা গ্রহণের জন্য ভর্তুকি বা ভাউচার প্রদান করলে তাদের আর্থিক প্রতিবেদনের মান উন্নত হতে পারে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন পেতে সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ যখন ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজস্ব প্রণোদনা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ব্যবসাগুলোকে কর কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল প্লাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে মূল সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারেন, যার ফলে কর ফাঁকি হ্রাস পাবে এবং কর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব নীতি নির্ধারণে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া অপরিহার্য। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর ব্যবস্থাপনা ও পরিপালন বিষয়ে তাদের বাস্তবভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টি রাজস্ব নীতির নকশা ও বাস্তবায়নকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে। আইসিএবি প্রতি বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বাজেট প্রণয়নের আগে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, শুল্কনীতি, সম্পূরক শুল্ক, অতিরিক্ত শুল্কের বিষয়ে আইসিএবির সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদান করছে। এ পরামর্শগুলো যথাযথভাবে জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে হবে। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ।










