অথচ উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, শিক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে একটি জাতীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেখানে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকবে হবে। ডিজিটাল শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির ওপর জোর দিতে হবে।

একই সঙ্গে ভ্যাট ও কর কাঠামোর সংস্কারও শিক্ষা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান কাঠামোয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেক পণ্য ও সেবার ওপর করের প্রভাব রয়েছে, যা শিক্ষার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে শিক্ষাপ্রযুক্তি, গবেষণা সরঞ্জাম এবং একাডেমিক রিসোর্স আমদানিতে করছাড় বা প্রণোদনা দেয়া হলে তা শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে কর সুবিধা এবং সরকারি অনুদান প্রদান একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ সালের বাজেট আমাদের দেখিয়েছে যে কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং খাতভিত্তিক কৌশলগত বিনিয়োগ। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সংকট চিহ্নিত করে সমাধানমুখী বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তবেই শিক্ষা খাত সত্যিকার অর্থে জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। বর্তমান সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি অপরিহার্য। কারণ দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া টেকসই চাকরির বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।