দেশে সিরামিক পণ্যের মোট বাজার ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ খাত থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে সরকার।
সিরামিক শিল্প জ্বালানিনির্ভর শিল্প হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের সম্ভাব্য ঊর্ধ্বগতি এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। এছাড়া কাঁচামালের বড় অংশ আমদানি করতে হয় বলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ এবং বৈশ্বিক মূল্য ওঠানামা উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অর্থায়ন ও লজিস্টিক খরচ সামগ্রিকভাবে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করছে, যা সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সহজ করা সম্ভব।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য ব্যবস্থাপনায় পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এ শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে কাঁচামাল আমদানিতে কর কাঠামো যৌক্তিক রাখা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ালে উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরো গতিশীল হবে। এছাড়া এ শিল্পকে রফতানিমুখী খাত হিসেবে এগিয়ে নিতে প্রণোদনা, কূটনৈতিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।
সরকারি নির্মাণ খাতে এরই মধ্যে দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য বরাবরই অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং আশানুরূপ ক্রয়াদেশ আসছে। তবে বেসরকারি আবাসন কোম্পানি, ডেভেলপার, স্থাপত্য ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এখনো বিদেশী টাইলস-স্যানিটারি পণ্যের প্রতি ঝোঁক লক্ষ করা যায়। এ শিল্পে সরকারি প্রণোদনা—বিশেষ করে রফতানি সহায়তা, কর সুবিধা এবং অবকাঠামোগত সহায়তা—আরো সম্প্রসারণ করা হলে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে।










