বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে কৃষি ও এর উপখাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ মানুষের। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল জোগান ও রফতানি আয় বাড়াতেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কৃষি খাত।

তবে এ খাতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কৃষি ব্যবস্থা এখনো সনাতনী। অন্যান্য দেশের তুলনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে রয়েছে দেশের কৃষি। জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি। এছাড়া প্রতি বছর গড়ে দশমিক ২ শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রের ওপর আমদানিনির্ভরতা রয়েছে ব্যাপক।

কৃষি খাতের উন্নয়নে নতুন করে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষকদের ১০টি সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আরো নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও দেশের কৃষি খাতকে আরো উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিগত অর্থবছরগুলোয় কৃষি এবং মৎস্য ও পশুপালন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও মোট জাতীয় বাজেটে এর হিস্যা ক্রমেই কমেছে।

দেশের কৃষি খাত এখন বেশকিছু কাঠামোগত সংকটে ভুগছে। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। সার, জ্বালানি, সেচ ও শ্রম খরচ বাড়ানোর কারণে কৃষকের মুনাফার মার্জিন কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের শিকার হচ্ছেন কৃষক। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোর অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে বরাদ্দ বাড়লেও তা সরাসরি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতকে নতুন করে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। বাজেটে বাস্তবসম্মত বরাদ্দের পাশাপাশি এর গুণগত ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কৃষকদের জন্য সরাসরি সহায়তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে ভর্তুকি, কৃষিঋণ ও উপকরণ সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া গেলে অপচয় কমবে এবং দক্ষতা বাড়বে। লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থার মাধ্যমে সার, বীজ ও সেচ খাতে সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার সংস্কার এবং কোল্ড স্টোরেজ, গুদামজাত ও সাপ্লাই চেইন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল কৃষিবাজার চালুর মাধ্যমে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। এছাড়া কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমার মতো সুযোগগুলোর পরিসর ও আওতা আরো বাড়ানো জরুরি।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কৃষিতে গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মাঠ পর্যায়ের সংযোগ বাড়ানোও জরুরি বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।