সরকার যদি মেগা প্রকল্প ও আবাসন খাতে বরাদ্দ বাড়ায়, তাহলে এ হার আরো বাড়তে পারে। তবে নীতিগত সহায়তা ছাড়া এ খাতের গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। কাঁচামালের ওপর শুল্কহার কমানো, ফিনিশড পণ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষামূলক শুল্কহার বজায় রাখা এবং স্থিতিশীল কর ও ব্যাংক খাতের ঋণপ্রবাহ সচল রাখার ওপরই নির্ভর করছে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর কমিয়ে ২-৩ শতাংশে নামিয়ে আনলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যা বিনিয়োগকে আরো আকর্ষণীয় করবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট পেতে বিলম্ব ব্যবস্থা ব্যবসার নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করছে। একাধিক ভ্যাট হার এবং স্ক্র্যাপের ওপর উচ্চ কর এ খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। দ্রুত ও স্বচ্ছ ট্যাক্স ক্রেডিট ব্যবস্থা এবং করহার যৌক্তিক না করলে সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে সবুজ শিল্পায়নকে সামনে আনা জরুরি। সোলার শক্তিতে ৪-৫ শতাংশ সুদে সহজ ঋণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে শুল্ক ছাড় এবং সরকারি প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব উপকরণের বাধ্যবাধকতার মতো উদ্যোগ এ স্টিল খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করবে। নিঃসন্দেহে উদ্যোক্তাদের অনেক বেশি আগ্রহ আছে। সরকার নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দিলে খাতটি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আবার সংকট তৈরি হতে পারে। ডলার সংকট ও কাঁচামাল আমদানির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। এলসি খোলায় অগ্রাধিকার, দেশীয় স্ক্র্যাপ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন এবং বিকল্প মুদ্রায় বাণিজ্যের উদ্যোগ নিয়ে এগোতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের সহায়তায় গতি না এলে এ শিল্পের চাকা ধীর হয়ে পড়বে।










