কিন্তু সরকার করহার কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একজন ব্যাংকার হিসেবে আমি বলব, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই করহার কমানোর ঘোষণা আসুক। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) পক্ষ থেকে আমরা এরই মধ্যে এনবিআরের কাছে বেশকিছু দাবি জানিয়েছি। এর মধ্যে করপোরেট করহার ৩০ শতাংশ অথবা তার নিচে নামিয়ে আনার দাবিও রয়েছে। ব্যাংকগুলোকে মূলত পরিচালন আয়ের ওপর কর দিতে হয়। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। কর হওয়া উচিত নিট মুনাফার ওপর। হ্যাঁ, যদি প্রভিশনের (সঞ্চিতি) ওপর কর দিতেই হয়, তাহলে সেটির হার অবশ্যই কমিয়ে আনা দরকার।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যাংকিং লেনদেনে কর আরোপের চিন্তার কথা বলেছেন, যা আত্মঘাতী হতে পারে। এমনিতেই দেশে ব্যাংক বিমুখতা ও আস্থাহীনতা রয়েছে; এ অবস্থায় এ ধরনের কর ‘ম্যাট্রেস মানি’ বাড়াবে। নগদ প্রবাহ কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন সহজলভ্য করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। লেনদেনে কর নয়, বরং ডিজিটাল লেনদেনে প্রণোদনা দিলে মানুষ ক্যাশলেস ব্যবস্থায় আগ্রহী হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

INFHOGRAPHICS-BANK-(-ROKY)-Outline

অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক করার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। আরো ১৫ হাজার কোটি টাকা দেয়ার কথা। জোগানকৃত এ অর্থের মালিক দেশের জনগণ। এ টাকার যথাযথ ব্যবহার যাতে নিশ্চিত হয়, সরকারকে সেটি দেখতে হবে। ব্যাংক খাতের সংকটের মূলে রয়েছে সুশাসনের ঘাটতি, যা গত দেড় দশকে ক্রমাগত ক্ষয় হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটে আমরা ব্যাংক খাতে কার্যকর করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। সুশাসন ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। আমরা চাই বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করুক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হলে দেশের ব্যাংকগুলো সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে। আর্থিক খাতের সংস্কার এমন হোক, যা ভবিষ্যৎ ব্যাংক লুট প্রতিরোধ করবে, অনাদায়ী ঋণ হ্রাস করবে এবং সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করবে।