চ্যালেঞ্জটা হলো সরকারকে দুই-তিনটা বড় টানাপড়েনের মধ্যে বাজেট দিতে হচ্ছে। প্রথমত, ইনফ্লেশনারি প্রেসার এখনো হাই; মার্চ বাদ দিলে আগের কয়েক মাস এটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং অনেকের ধারণা বাস্তব চিত্র রিপোর্টের চেয়ে বেশি, ডাবল ডিজিট। এ অবস্থায় মনিটারি পলিসি রক্ষণাত্মক রাখা সঠিক, তবে মনিটারি ও ফিসক্যাল পলিসির সমন্বয় জরুরি। বাজেটের মাধ্যমে মুদ্রা সরবরাহ যেন ওই নীতির সঙ্গে অ্যালাইন থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

সুতরাং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ানো যাবে না। কৃচ্ছ্রতাসাধন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় রোধে সেলফগার্ড আনতে হবে। খুব বেশি উচ্চাভিলাষী হওয়া যাবে না, না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাবে এবং আর্থিক নীতির অর্জন ব্যাহত হবে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারের অর্থের অভাব। সরকারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল। আমরা দেখছি, ১০ মাসে ১ লাখ কোটি টাকার মতো রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আগামী বছর খুব ভালো হবে, এমন আশা করার কারণ নেই। কারণ সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে থাকার ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ট্যাক্স কাঠামোর দুর্বলতা ও কর ভিত্তির সীমাবদ্ধতার কারণে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, এমন সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে নতুন অর্থায়নের উৎস খুঁজতে হবে। গ্লোবাল বন্ড মার্কেট, সম্পদের সিকিউরিটাইজেশন এবং যেখানে বাণিজ্যিক রিটার্ন আছে, সেখানে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

অপরচুনিটি হলো অর্থনীতি ও সরকারি বিনিয়োগকে জনমুখী করা এবং প্রডাক্টিভ ক্যাপাসিটি বাড়ানো। ডেভেলপমেন্ট এক্সপেন্ডিচার কমে গেছে, এখন প্রয়োজনীয় খাতে সতর্কভাবে বাড়াতে হবে। এ বাজেট একটি বড় সুযোগ। এখান থেকেই রাজস্ব সংস্কার, ফিসক্যাল ডিসিপ্লিন শক্তিশালী করা, পাবলিক এক্সপেন্ডিচার কোয়ালিটি ও সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নজর দিতে হবে।