আর সামগ্রিক এগ্রিবিজনেস ভ্যালু চেইন (বীজ, সার, কৃষি যন্ত্র, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন) কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি ইকোসিস্টেম। সরকার ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, আয়করসহ বিভিন্ন উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে।

বর্তমানে কৃষি ও এগ্রিবিজনেস খাত কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রথমত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা, বন্যা ও নতুন রোগ-বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উৎপাদন ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ এখনো পর্যাপ্ত নয়, ফলে জলবায়ু সহনশীল ও উন্নত জাত দ্রুত মাঠে পৌঁছাচ্ছে না। তৃতীয়ত, বাজারে নিম্ন মানের ও অননুমোদিত বীজ কৃষকের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এছাড়া সার সরবরাহে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি শ্রমিকের সংকট ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নীতিগত জটিলতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতিও ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছু কৌশলগত উদ্যোগ জরুরি। প্রথমত, সরকারি ও বেসরকারি খাতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর প্রণোদনা প্রদান করা উচিত। যাতে জলবায়ু সহনশীল ও রোগ প্রতিরোধী নতুন জাত দ্রুত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা যায়। দ্বিতীয়ত, মানসম্মত বীজের সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সার সরবরাহ স্বাভাবিক ও ভর্তুকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করা যেতে পারে।

উন্নত বীজ, গবেষণাসামগ্রী ও কৃষি যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট যৌক্তিক করা হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন জাত অনুমোদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা প্রয়োজন, যাতে উদ্ভাবন দ্রুত মাঠে পৌঁছায়। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং রফতানিমুখী কৃষি শিল্পে প্রণোদনা দেয়া দরকার।

Agriculture-Outline-Final