বিশেষ করে ক্যান্সারসহ জটিল রোগের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দেশেই উৎপাদন হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন ও এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিটিউক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট) খাতেও সক্ষমতা বাড়ছে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় দেয়ার মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়, যা শিল্পের বিকাশে সহায়ক হয়েছে। তবে দেশে এখনো প্রায় ৯০ শতাংশ এপিআই আমদানিনির্ভর। তাই এ খাতে শুল্ক ছাড় অব্যাহত ও সম্প্রসারণ করলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং উচ্চমূল্যের ওষুধ বাজারজাত সহজ হবে।
স্যান্ডউইচ প্যানেল ও ল্যাবরেটরি ফার্নিচারের মতো ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণে উচ্চ শুল্ক বিদ্যমান, যা আগে মাত্র ১ শতাংশ ছিল। এ শুল্ক কমিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলে তা নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।
বর্তমানে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করপোরেট ট্যাক্স ২৫ শতাংশে রাখার প্রস্তাব থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম করহার বিক্রয় আয়ের ওপর দশমিক ৬ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে, যা মুনাফা না করলেও কোম্পানিগুলোকে মূলধন থেকে কর দিতে বাধ্য করছে। পুরো বিষয়টিতে ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ওষুধ শিল্প এখন শুধু উৎপাদন নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ প্রেক্ষাপটে খাতটিকে এগিয়ে নিতে আসন্ন বাজেটে সঠিক নীতি প্রণয়নে জোর দিতে হবে। অযৌক্তিক করচাপ হ্রাস, কাঁচামালে শুল্ক ছাড় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিই হতে পারে খাতটির টেকসই বিকাশের মূল চাবিকাঠি। এর আওতায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও প্রণোদনা প্রত্যাশা করছে ওষুধ শিল্প।










