বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র মানসম্মত শিক্ষার চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটলেও এর গুণগত মান ও সমতা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারি বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা খাত এখনো তার পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছতে পারেনি
বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান, প্রশাসনিক জটিলতা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও দক্ষ শিক্ষক সংকট শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বর্তমানে শিক্ষা খাত কয়েকটি মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার অমিল, গবেষণায় অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য ইত্যাদি। এছাড়া গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সহায়তার ঘাটতি বিদ্যমান রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আসন্ন বাজেটে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। যেমন শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকায়ন করা।
পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রণোদনা প্রদান, আধুনিক ল্যাব ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ট্যাক্সকে প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে শিক্ষার জন্য একটি সহায়ক ও গবেষণাধর্মী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, নীতির স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাসের মাধ্যমে শিক্ষা খাতকে আরো কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব। ফলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।










