এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় বাজেটকে আমরা একটি প্রবৃদ্ধিমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও বাস্তবসম্মত বাজেট হিসেবে দেখতে চাই।
চাপ দিয়ে নয়, বরং ব্যবসার পরিবেশকে শক্তিশালী করেই রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে করপোরেট করহার এবং সামগ্রিক কর কাঠামো এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগকারীদের বিশেষ করে বিদেশীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশী বিনিয়োগকারীরা যদি নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না পান, তাহলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও আস্থা প্রত্যাশা করা কঠিন।
আমরা বিদেশী বিনিয়োগ আনতে চাচ্ছি অথচ নিজেদের শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিশ্চিত করতে পারছি না। এটি একটি মৌলিক বৈপরীত্য। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, লজিস্টিকস এ মৌলিক উপাদানগুলো নিশ্চিত না করে শিল্পায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা, যা বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে।
কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেয়া জরুরি। করজাল বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, এটি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো বর্তমানে যারা নিয়মিত কর প্রদান করেন, তাদের ওপরই তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে। এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। কর ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে নতুন করদাতা যুক্ত হয় এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদান করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। ভ্যাটের হারও এমন একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশে হয়রানি কমানো অত্যন্ত জরুরি। আমার বিশ্বাস, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, সহায়তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে দেখবে।মোস্তফা কামাল










