রাজস্ব বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ হিসেবে যদি একই প্রতিষ্ঠানের ওপর বারবার করের চাপ বাড়ানো হয় তাহলে আসলেই শিল্প খাত টিকবে না, অর্থনীতিও বড় হবে না।

আবার সরকারের রাজস্বও বাড়াতে হবে। দেশে করজাল সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের যে অগ্রগতি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে সহজেই কর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা সম্ভব। এতে নগদ টাকার অবৈধ লেনদেনও কমে আসবে। শিল্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা হলে নতুন করদাতা যুক্ত হবে, অর্থনীতি আরো স্বচ্ছ হবে।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো টার্নওভার ট্যাক্স বা লেনদেন কর। আগে যেখানে এ হার ছিল দশমিক ৬ শতাংশ, সর্বশেষ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এর বৈশিষ্ট্য হলো লাভ বা লোকসান, যা-ই হোক মোট লেনদেনের ওপর নির্দিষ্ট হারে টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি যদি ১০০ টাকার পণ্য বা সেবা বিক্রি করে তাহলে লাভ-লোকসান বিবেচনা না করেই তাকে ১ টাকা কর দিতে হচ্ছে। ভ্যাট ও অন্যান্য করের বাইরে এটিকে আয়কর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে লোকসানি বা ব্রেক-ইভেন অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এটি বড় চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে মূলধন থেকেই এ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এমন কর কাঠামোর নজির আমাদের জানা নেই। এ ধরনের নীতি দেশীয় শিল্পের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।