মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে, বিশেষ করে জ্বালানির বাজার, রফতানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট কেবল আকারে বড় হলেই চলবে না, এটি হতে হবে কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগ-উদ্দীপক।
অতীতে আমরা দেখেছি, রাজস্ব বাড়ানোর সহজ পথ হিসেবে করের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এ পদ্ধতি বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে আরো চাপ তৈরি করবে এবং ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বরং সরকারের উচিত করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রেখে করের আওতা বিস্তৃত করা। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে, যা রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে। এ বিশাল অংশকে করের আওতায় আনা গেলে রাজস্ব আয় টেকসই করা ও এর পরিধি বাড়ানো সম্ভব।
আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান এবং দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়ন করতে হবে। করপোরেট করহার যৌক্তিক রাখতে হবে। চলতি বাজেটে সরকার এ করহার ২৫ শতাংশের নিচে করবে বলে আশা করছি। এছাড়া কাঁচামাল আমদানির ওপর আগাম কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হলে তা শিল্প খাতে স্বস্তি এনে দিবে। সরকার টার্নওভার ট্যাক্স বৃদ্ধি করার চিন্তা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইলে সেটি কমিয়ে আনা প্রয়োজন।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদহার আরেকটি বড় বাধা। ব্যাংক ঋণের সুদ কমানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো জরুরি। এজন্য সরকারি ঋণ গ্রহণ কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।










