সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, স্ল্যাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ এসবের ওপর বর্তমান শুল্ক ও করহার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে উৎপাদন ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর কাস্টমস ডিউটি অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর ১৫ শতাংশ ধরা হয়, যা কোনো শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেশি। সাধারণত এ ধরনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক আমদানি মূল্য অথবা অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর ৫ শতাংশের আশপাশে থাকে। আগে নির্দিষ্ট হারে প্রতি টন ৭০০ টাকা ডিউটি ছিল। আমরা সেটি ৫০০ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করছি। এতে শিল্প কিছুটা স্বস্তি পাবে। অ্যাসেসেবল ভ্যালু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যে দামে কাঁচামাল আমদানি করি, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য ধরে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আমরা ইনভয়েস মূল্য ধরে শুল্কায়নের দাবি জানাচ্ছি।

বর্তমানে ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর বড় চাপ। পাশাপাশি বিক্রয় পর্যায়েও ২ শতাংশ অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, এ কর অনেক সময় প্রকৃত আয়করের চেয়েও বেশি হয়ে যায়। আগে এটি ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসানেও কর দিতে হয়েছে।

লাইমস্টোন সিমেন্ট শিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল। কিন্তু এর ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা সাধারণত বিলাসী বা নিরুৎসাহিত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা ট্যারিফভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করছি, যাতে প্রতি টনে একটি নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট ধার্য হয়।

যদি এ কর কাঠামোর সংস্কার না হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তেই থাকবে। এতে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অবকাঠামো উন্নয়নেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ সিমেন্ট একটি মৌলিক শিল্প। তাই আমরা একটি বাস্তবসম্মত, শিল্পবান্ধব করনীতি প্রত্যাশা করি।