সংসদে অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছর পার করতে অতিরিক্ত প্রয়োজন আরো ৯ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে আর্থিক চাপ সামাল দিতে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর হিসাবনিকাশ শুরু করেছে। সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য পাওয়া না গেলেও ২০ শতাংশ বাড়ানোর খবর এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ খাতে সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বকেয়া পরিশোধ। নিয়মিত বিদ্যুতের বিল না পাওয়ায় এরই মধ্যে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকিতে পড়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
গ্যাস ও জ্বালানি তেলভিত্তিক আইপিপিগুলোর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ও আইপিপি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লার মূল্য ও ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে সরকারের তথ্যে উঠে এসেছে। সরকারি কোম্পানির ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ বকেয়া ৫ হাজার ৬২৩ কোটি ৩ লাখ এবং হুইলিং (বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ) চার্জ বাবদ বকেয়া ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সংসদে উপস্থাপিত এক তথ্যে উঠে এসেছে।
দেশের বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। যদিও জ্বালানি সংকটে দিনে অন্তত দেড়-দুই হাজার মেগাওয়াট সরকারকে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে কয়েক বছর ধরে। অন্যদিকে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঋণচাপ বাড়াচ্ছে বহু আগ থেকে।
দেশের জ্বালানি খাতে গ্যাস অর্থাৎ এলপিজিতে আমদানিনির্ভরতা ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের ৯৪ শতাংশ আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি বছর এ দুই খাতে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে সরকারের। বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে সরকার এলএনজিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের ভর্তুকি কমাতে দামও বাড়িয়েছে। বিগত এক দশক জ্বালানি তেলে ভর্তুকি না দিতে হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বর্তমানে প্রতি মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ ভর্তুকি কমাতে সরকার সম্প্রতি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে এলএনজি আমদানিতে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা অর্থবছরে ভর্তুকি থাকলেও আরো অতিরিক্ত ১৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।










