বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয় শিল্প, আইসক্রিম এবং অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন।

প্রথমত, অগ্রিম কর, উৎসে কর কর্তন এবং ভ্যাটের অতিরিক্ত অর্থ দ্রুত সমন্বয় বা ফেরত দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এসব অতিরিক্ত কর সময়মতো সমন্বয় বা ফেরত না পাওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে সমস্যা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর সমন্বয় বা ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে উৎপাদন খাতের নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, ব্যবসার গতি ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণও বাড়বে।

Macro-Chart-FINAL-2-Bonik-Final

দ্বিতীয়ত, প্যাকেজিং উপকরণ এবং কোল্ড চেইন সরঞ্জামের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা যৌক্তিক করা প্রয়োজন। বর্তমানে এসব উপকরণের ওপর উচ্চ শুল্ক ও কর আরোপের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পানীয়, আইসক্রিম ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সঠিক সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য কোল্ড চেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিজ, ফ্রিজার, কম্প্রেসরসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং প্যাকেজিং উপকরণ শিল্পের জন্য অপরিহার্য, বিলাসবহুল নয়। তাই এসবের ওপর কর কমানো হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, পণ্যের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়বে।

সার্বিকভাবে এ দুটি নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্প খাত আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারও দীর্ঘমেয়াদে অধিক রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম হবে।