২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতের প্রিমিয়াম আয় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স একাই প্রায় ১৮ শতাংশ বাজারের অংশীদার। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে বীমার আওতায় আনতে পেরেছি আমরা।

প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী কর্মী এবং আরো প্রায় ১০ লাখ এজেন্ট ও কমিশনভিত্তিক কর্মীর মাধ্যমে এ খাত একটি বড় শ্রমবাজার তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে ‘‌লাইফ’ ও ‘‌নন-লাইফ’ মিলিয়ে ভ্যাট, কর ও স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ সরকার প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। ব্যাংকাস্যুরেন্স চালুর ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা বিক্রির নতুন পথ খুলেছে, যা ভবিষ্যতে প্রিমিয়াম আয় ও রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এ খাতের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আস্থার অভাব। কারণ কিছু কোম্পানির পক্ষ থেকে সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধ না করা। যখন একজন গ্রাহক তার প্রাপ্য অর্থ পেতে দেরি করেন বা অনিশ্চয়তায় থাকেন, তখন পুরো খাতের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। যদিও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স সময়মতো মেয়াদোত্তর, সারেন্ডার ও মৃত্যু দাবি পরিশোধের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তবে সামষ্টিকভাবে এ খাতের সংকট দূর করতে হলে দাবি পরিশোধে স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কঠোর নজরদারি জরুরি। কোনো কোম্পানি আর্থিকভাবে দুর্বল বা নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে তাকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষ সহায়তার মাধ্যমে তাদের পুনর্গঠন করা যেতে পারে।

সমস্যা হলো এখনো দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী বীমাকে অবিশ্বাসের চোখে দেখে বা এর প্রয়োজনীয়তা বোঝে না। এখানে সরকারি পর্যায় থেকে প্রচারণা দরকার। ব্যাংকাস্যুরেন্সের বিস্তার, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনের মাধ্যমে এ খাতের বিস্তার সম্ভব। এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উন্নতি লাভ করবে।