শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর ভর করে খাতটির আকার এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০-১২ হাজার কোটি টাকায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কেবল ও ওয়্যার শিল্পের বাজারে চাহিদায় কিছুটা শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, রিয়েল এস্টেট খাতে স্থবিরতা এবং বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়াকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক মাত্রায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা হলেও এর সঙ্গে সংগতি রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সম্প্রসারণ সেভাবে ঘটেনি। আবার অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতিসহ অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ নানা প্রভাবকের ছাপ পড়েছে নির্মাণ খাতেও। টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও রয়েছে স্থবিরতা। এসব সংকট কাটিয়ে ওঠা গেলে কেবল শিল্পে চাহিদার শ্লথগতিও কেটে যাবে বলে আশাবাদী খাতটির বিনিয়োগকারীরা।

আবার অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতাও খাতটির বড় একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা বেশি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, যার প্রভাব পড়ছে মুনাফার মার্জিনেও।

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য মতে, খাতটির সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো কাঁচামালনির্ভরতা ও ব্যয় বৃদ্ধি। কপার, অ্যালুমিনিয়াম ও নানা ধরনের পলিমারসহ কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে খাতটি সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর। ফলে কেবল শিল্পের বাজারেও অর্থনীতির বহিঃস্থ প্রভাবকগুলোর যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সংবেদনশীল আচরণ দেখা যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন ব্যয়ে। এ খাতে মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ যায় কাঁচামালের পেছনে। ফলে কাঁচামালের সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও গোটা শিল্পকে চাপে ফেলে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, এলসি খোলার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন তারল্য সংকটসহ নানা আর্থিক চাপে ভুগছে।

কর ও শুল্ক কাঠামোও খাতটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা। বিদ্যমান ট্যারিফ ব্যবস্থায় কাঁচামাল ও প্রস্তুত কেবলের ওপর কার্যকর করভার প্রায় কাছাকাছি। ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা বাজারে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন না। শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে এ ট্যারিফ কাঠামো দেশে কেবল শিল্পে মূল্য সংযোজনকে নিরুৎসাহিত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আমদানীকৃত প্রস্তুত পণ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে নিম্নমানের ও অননুমোদিত কেবলের উপস্থিতি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঁচামালের ওপর শুল্ক ও করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে এনে একটি কার্যকর ট্যারিফ ব্যবধান তৈরি করা গেলে স্থানীয় উৎপাদনকারী উৎসাহিত হবেন। দ্বিতীয়ত, অগ্রিম আয়কর কমানো এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত কর দ্রুত সমন্বয় বা ফেরতের ব্যবস্থা করা গেলেও উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন। এছাড়া ভ্যাট কাঠামো সরল ও একক করা গেলে কোম্পানিভেদে বৈষম্য দূর হবে। পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যায়ন প্রকৃত ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারেরও দাবি রয়েছে উদ্যোক্তাদের।