একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমি মনে করি, এ খাতটি দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সরিষা, হলুদ ও মরিচ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জড়িত। শুধু সরিষার তেল খাতেই বছরে হাজার কোটি টাকার বাজার বিদ্যমান এবং এই তিনটি পণ্যের সম্মিলিত বাজার আকার কয়েক হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকার এ খাত থেকে ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য শুল্কের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে।
তবে বর্তমানে খাতটি নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রথমত, কাঁচামালের অস্থিতিশীলতা একটি বড় সমস্যা। কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায় না, ফলে উৎপাদনে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিস্তার সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভোক্তার আস্থা কমাচ্ছে। তৃতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার অভাবের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাব নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, সরিষা, হলুদ ও মরিচ চাষে কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে উৎপাদন বাড়ে এবং কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত হয়। দ্বিতীয়ত, ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। তৃতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তি আমদানি ও ব্যবহারে কর রেয়াত এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে শিল্প খাত আরো শক্তিশালী হবে।
প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় এবং রফতানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা হলে এ খাত দ্রুত এগিয়ে যাবে। ফলে উৎপাদন ও বিক্রি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।










