বিদ্যুতায়ন, নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রিয়েল এস্টেট খাতের সম্প্রসারণের কারণে এ শিল্পের বাজার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের কেবল বাজারের আকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, যা গত ১০ বছরে প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (২ হাজার কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা)। এ বাজারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১০-১৫ শতাংশ। মূলত শতভাগ বিদ্যুতায়ন, দ্রুত নগরায়ণ, মেট্রোরেল ও ব্রিজসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং হাউজিং খাতের সম্প্রসারণ এ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
চাহিদার দিক থেকে দেশের মোট কেবল ব্যবহারের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে শিল্প ও অবকাঠামো খাত থেকে, আর ৪০ শতাংশ আসে আবাসিক বা গৃহস্থালি খাত থেকে।
শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই-তিন লাখ মানুষ কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কারখানার শ্রমিক, প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, ব্যবস্থাপনা কর্মী, পাশাপাশি ডিলার, পরিবেশক, পরিবহন ও খুচরা বিক্রেতারা অন্তর্ভুক্ত।
তথ্য বলছে, ১২ হাজার কোটি টাকার বাজার থেকে সরকার ভ্যাট, করপোরেট কর ও আমদানি শুল্কসহ বছরে আনুমানিক ২-৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।
তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে অন্যতম হলো নন-ব্র্যান্ডেড নিম্নমানের পণ্যের বাজার দখল, কাঁচামালের (কপার, অ্যালুমিনিয়াম, পিভিসি) দামের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে উৎপাদন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে বাজেটে বিশেষ নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক বিএসটিআই সার্টিফিকেশন ও কিউআর কোড ট্র্যাকিং, বাজার মনিটরিং জোরদার, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি।
এছাড়া কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তি, স্থানীয় কপার রিসাইক্লিং শিল্প উন্নয়ন এবং শিল্পে স্বল্পসুদে ঋণ (সিঙ্গেল ডিজিট) সুবিধা দেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।










