বর্তমানে দেশের বীমা খাত এখনো সম্ভাবনাময় হলেও এর প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতায়। দেশের জিডিপির তুলনায় ইন্স্যুরেন্স প্রবেশমাত্রা মাত্র দশমিক ৪ থেকে দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বীমা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। সেক্ষেত্রে সরকারকে বীমা সেক্টরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত। এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারেও বীমা খাত উন্নয়ন সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।

প্রথমত, গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্বল সেবা মানের কারণে মানুষের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই বাজেটে শক্তিশালী তদারকি, দ্রুত ক্লেইম সেটলমেন্ট নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

দ্বিতীয়ত, বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এখনো ইন্স্যুরেন্স সেবার বাইরে রয়ে গেছে। অথচ এ খাতেই বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স, কৃষি ও স্বাস্থ্যভিত্তিক পণ্য চালু এবং ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে কর সুবিধা ও প্রণোদনা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে মোটর ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক ছিল।

চর্তুথত, খাতটির সুশাসন ও আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট, অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ এবং দুর্বল ব্যবসায়িক মডেল বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মূলধন শক্তিশালীকরণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক নীতি গ্রহণ করা উচিত।

সবশেষে ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্স ও ডিজিটালাইজেশনকে উৎসাহিত করলে খাতটি দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে।