খাতসংশ্লিষ্ট বিপণন সেবার পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন, কৃষি, পরিবহন, প্রসেসিং ও আনুষঙ্গিক সেবায় লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সরকারও করপোরেট ট্যাক্স, ভ্যাট, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য শুল্কের মাধ্যমে এ খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

আধুনিক সুপারশপ খাতটি স্বভাবতই কম গ্রস মার্জিনে পরিচালিত হয়; ফলে ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং বিনিয়োগের প্রত্যাবর্তনও ধীর। কিন্তু বাংলাদেশে কম খরচের মূলধন সহজলভ্য নয়; ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় আমরা তীব্র মূলধন চাপে পড়ি। এর সঙ্গে মোট বিক্রয়ের ওপর ন্যূনতম কর নীতি মূলধনকে আরো সংকুচিত করছে। অন্যদিকে কোল্ড চেইন যন্ত্রপাতি আমদানিনির্ভর হওয়ায় উচ্চ শুল্ক দিতে হয়। অথচ এগুলোকে ক্যাপিটাল মেশিনারি হিসেবে বিবেচনা করলে খরচ অনেক কমানো সম্ভব। পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্পেসেরও সংকট ও রিয়েল এস্টেটের ব্যয় আউটলেট সম্প্রসারণকে জটিল করে তুলছে।

আসন্ন বাজেটে রিটেইল সেক্টরকে ‘অগ্রাধিকারমূলক খাত’ হিসেবে বিবেচনা করে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ দেয়া জরুরি। বিক্রয়ের ওপর অযৌক্তিক চাপ কমাতে ন্যূনতম কর নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কোল্ড চেইন যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমাতে হবে। সেই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ইনপুট ভ্যাট রিবেট নীতিতে কার্যকর ট্যাক্স রিবেটের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং বিদ্যুতের ওপর রিবেট কাঠামো আরো সহজ, বাস্তবসম্মত ও ব্যবসাবান্ধব করতে হবে।

সরকার যদি নীতিগত সহায়তা দিয়ে নতুন আউটলেট খোলার পরিবেশ সহজ করে, তবে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব—দুটোই বাড়বে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও মান নিয়ন্ত্রিত পণ্য নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এতে সংগঠিত রিটেইল আরো সম্প্রসারিত হয়ে সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।