একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও মন্থর, যা বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোক্তা চাহিদা ও ব্যবসার সক্ষমতা—উভয়কেই প্রভাবিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেটে কিছু সহায়ক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রথমত, আর্থিক খাতে তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিকল্প তহবিলের উৎস—বিশেষ করে বন্ড মার্কেট—উন্নয়ন জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যয়ের দক্ষতা উন্নয়ন—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক ও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত নিষ্পত্তি, পুনর্গঠন সুবিধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে এ চাপ কমানো সম্ভব। বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধারে খাতভিত্তিক প্রণোদনা ও কর-সহায়তা বিবেচনা করা যেতে পারে, বিশেষ করে এসএমই ও উৎপাদন খাতে। তবে এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে তা টেকসই হবে এবং রাজস্বের ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি করবে না।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং আমদানি ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্বিত নীতি বা দুর্বল বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির দিকে অব্যাহত গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করবে। সবশেষে সবুজ অর্থায়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ অর্থায়ন পাচ্ছে, যা এ খাতে আরো সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে।