এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বাজার ৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। যেখানে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ। সরাসরি ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ কৃষকের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় রফতানিতে এর অবদান ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বের ১৪০টির বেশি দেশে পৌঁছে যাচ্ছে এদেশের প্রক্রিয়াজাত পণ্য।

তবে বৈশ্বিক রফতানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো নগণ্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক খাদ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ খাতের রফতানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারের আশপাশে থমকে আছে। বিশেষ করে ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় পরবর্তী বছরে ২৮ শতাংশ কমে দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এ থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

Macro-Chart-FINAL-2-Bonik-Final

অতীতে সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান হারিয়েছে, যা প্রতিযোগী দেশগুলো দখল করে নিয়েছে। এ বাস্তবতায় বাজেটে নীতিগত ধারাবাহিকতা, বাজার বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান ও সার্টিফিকেশন উন্নয়ন জরুরি। কাঁচামালের মান, কোল্ড চেইন, লজিস্টিক ঘাটতি এবং ব্র্যান্ডিং দুর্বলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি নীতিগত জটিলতা ও বিনিয়োগ ধীরগতিও অগ্রগতিকে বাধাপ্রাপ্ত করছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো সাফল্য পেতে হলে বাংলাদেশেও নীতিগত ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

আসন্ন বাজেটে কৃষি থেকে শিল্প পর্যন্ত একটি সমন্বিত ‘‌ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলা দরকার। এজন্য চুক্তিভিত্তিক চাষ, কোল্ড স্টোরেজ ও লজিস্টিকসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শুল্ক হ্রাস ও এসএমই অর্থায়ন সহজীকরণ করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, রেডিয়েশন ফ্যাসিলিটি ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাকে সাশ্রয়ী করতে হবে। সঠিক নীতি সহায়তা ও একটি দূরদর্শী বাজেট পেলে এগ্রো প্রসেসিং খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের মতো প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।