জাতীয় অর্থনীতিতে এত অবদান রাখার পরও সম্ভাবনার খাতটি এখন নানা কাঠামোগত ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কাঁচামাল, বিশেষ করে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টসের (এপিআই) আমদানিনির্ভরতা। এখনো ৮৫-৯০ শতাংশ এপিআই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা, ডলার সংকট বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সরাসরি উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলে।
এ বাস্তবতায় আসন্ন বাজেটে ওষুধ শিল্পের জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ও প্রণোদনা বাড়াতে হবে। সরকার-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বায়োসিমিলার, অনকোলজি, ভ্যাকসিন ও উচ্চপ্রযুক্তির ওষুধ উৎপাদনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, এপিআই ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে, পাশাপাশি এপিআই শিল্পপার্ক দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, বাস্তব উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। চতুর্থত, রফতানি বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কর অবকাশ, সহজশর্তে ঋণ, নগদ সহায়তা ও বিকল্প প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী ট্রিপস চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগেভাগে নতুন ওষুধ নিবন্ধন, ডিজিডিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে ওষুধ শিল্প আরো টেকসই ও রফতানিমুখী হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ওষুধ পাবে। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওষুধ শিল্পকে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।










