তবে বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় খাত হলেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের উচ্চ শুল্ক ও নানা অস্থিতিশীলতার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একই সঙ্গে কভিড-১৯, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, সম্প্রতি সৃষ্ট ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ফার্নিচার খাত আরো চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এছাড়া খাতটির প্রধান সমস্যার মধ্যে আরো রয়েছে কাঁচামালের উচ্চমূল্য। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
আগামী জাতীয় বাজেট (২০২৬-২৭) ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা মূলত উৎপাদন খরচ কমানো, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং নীতি সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, ফার্নিচার খাতের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এইচএস কোড সুনির্দিষ্টকরণ ও মূল্যায়নে জটিলতা দূর করতে হবে। আসবাবপত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানীকৃত কাঁচামালের অপচয় বা বর্জ্য নিজস্ব কারখানায় রিসাইকেল করে তাপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমন্বয় পদ্ধতি সহজ করা, ভ্যাট ব্যবস্থায় সহগ মূসক অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করা। এছাড়া ফার্নিচার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের ওপর উৎসে করহার ৩ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা। আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তনে ২ শতাংশ করা। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েব পোর্টালে প্রকাশিত সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি পূর্ণ বাস্তবায়ন করারও দাবি এ খাতের উদ্যোক্তাদের।
ফার্নিচার শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি (বিএফএসএমএস) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের কাছে একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত লক (তালা) আমদানিতে আমদানি শুল্ক দিতে হয় ২৫ শতাংশ, নিয়ন্ত্রক শুল্ক ৩ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ। ভ্যাট ১৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর দিতে হয় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের দাবি এসব পণ্যে আমদানি শুল্ক থাকলেও নিয়ন্ত্রণ শুল্ক বাতিল করা এবং অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ করা। এছাড়া ফার্নিচার অ্যাকসেসরিজ, চেয়ার অ্যাকসেসরিজসহ সব আমদানিতে শুল্ক কমানোর তাগিদ দিয়েছেন।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অন্যতম সম্ভবনাময় ও অগ্রসর ফার্নিচার শিল্প। কাঠ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা গেলেও সিংহভাগ উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ডলারের দাম বাড়ায় ও মূল্যস্ফীতির কারণে ফার্নিচারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং বিক্রি ২০-৩০ শতাংশ কমে গেছে।










