২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমরা এমন এক নীতি কাঠামোর প্রত্যাশা করি, যা এ খাতের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তবে বর্তমানে এ শিল্প বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কাঁচা পাটের বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতা উৎপাদন পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে রফতানি প্রণোদনা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে নেয়ায় শিল্পটি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচা পাট ক্রয়ের ওপর দশমিক ৫০ শতাংশ ‘উৎসে মূসক’ সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। জুট ব্যাচিং অয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভারতের বাজারে ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক’ ও পণ্য খালাসে সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে সংকুচিত করছে।
এ সংকট উত্তরণে আসন্ন বাজেটে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্ববাজারে সক্ষমতা বাড়াতে স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচা পাট ক্রয়ের ওপর আরোপিত উৎসে কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রফতানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ অগ্রিম আয়কর তুলে নিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সংকট কাটবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রফতানি প্রণোদনা যৌক্তিক হারে বজায় রাখা এবং এর ওপর ১০ শতাংশ এআইটি কর্তন থেকে অব্যাহতি দেয়া জরুরি।
সরকার যদি উচ্চফলনশীল বীজ উৎপাদন ও কৃষক পর্যায়ে সরাসরি প্রণোদনা নিশ্চিত করে, তবে কাঁচা পাটের গুণগত মান ও সরবরাহ দুই-ই বাড়বে। রফতানি আয়ের ওপর বর্তমান উৎসে কর কর্তন অব্যাহতি দিলে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি করপোরেট কর ও অন্যান্য পরোক্ষ করের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বহুলাংশ বাড়িয়ে দেবে।










