সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় তুরস্কের বিশ্বখ্যাত আইগ্যাস ও বাংলাদেশের ইউনাইটেড গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আমরা দেশের বাজারে কার্যক্রম শুরু করি। শুরুতে সীমিত স্টোরেজ সক্ষমতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে অবকাঠামো ও সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দিয়েছি। বর্তমানে আমাদের মোট স্টোরেজ সক্ষমতা প্রায় ১৯ হাজার টন।
দেশের প্রায় দুই হাজার ডিস্ট্রিবিউটর ও ৫০ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। পরিবহন, লজিস্টিক, বোতলজাত, অটোগ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ভ্যাট ও আয়করের মাধ্যমে এটি সরকারের একটি বড় রাজস্ব উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে খাতটির প্রধান চ্যালেঞ্জ আমদানিনির্ভরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ফ্রেইট ব্যয় ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সরবরাহের ওপর নির্ভরতা দেশের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের এলপিজি সোর্সিং স্ট্র্যাটেজি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অপারেটরদের সরবাহ পরিকল্পনা নিরবচ্ছিন্ন করতে আমদানি প্রক্রিয়ায় নীতিগত স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
খাতসংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও বিইআরসি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সোর্সিং সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে। অপারেটরদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নীতিমালার স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা জোরদার, কার্যকর মনিটরিং ও নিরাপত্তা মান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে সরবরাহ চেইন শক্তিশালী হয়ে ভোক্তার আস্থা বাড়াবে। এলপিজিকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে আরো বিস্তৃত করতে যেসব অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছেনি, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেয়া দরকার। এতে ব্যবহার বাড়বে, সরবরাহ জোরদার হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।










