রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অলিগার্কদের যোগসাজশে অনেক ব্যাংক কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৮-১০টি ব্যাংকের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকও এ তালিকায় রয়েছে। ব্যাংক খাত সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, শুরুর দিকে আমরা তাতে সহযোগিতা করছিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো সে সময় সামর্থ্যের তুলনায় একসঙ্গে অতিরিক্ত কাজ হাতে নেয়া হয়, ফলে অনেক কিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। একযোগে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে পুনরুদ্ধারের সুযোগ ছিল। আমি নিজেও তৎকালীন গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে কাজের চেয়ে কথাই বেশি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যে ব্যাংকে মানুষ একবার টাকা রেখে ফেরত পায়নি, ভবিষ্যতে সেখানে তারা আর আস্থা রাখতে চাইবে না।
নির্বাচিত এ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা চাইব, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে নজর দিক। তবে সেটি যেন একপক্ষীয় না হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পর্ষদে অর্ধেক স্বতন্ত্র পরিচালক চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমরা সেটির বিরোধিতা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া স্বতন্ত্র পরিচালকরা যদি ‘ফেরেশতা’ হয়, তাহলে তাদের দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পরিচালনা করা হোক। প্রায় সবক’টি সরকারি ব্যাংকের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ভারতের আদলে আমাদের সরকারি ব্যাংকগুলোও একীভূত করে সংখ্যা কমিয়ে আনা হোক। তাহলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছেও একটি বার্তা যাবে। আর দেশে ব্যাংক একীভূতকরণের একটি সংস্কৃতিও তৈরি হবে।
অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি, জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্বসহ দেশের অর্থনীতিতে এ মুহূর্তে বহু সংকট চলছে। এসব মাথায় নিয়েই বিএনপি সরকার তার প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছে। আমরা বিএবির পক্ষ থেকে করপোরেট করহার কমানোসহ বেশকিছু দাবি জানিয়েছি।
আশা করছি, সরকার সেগুলো আমলে নিয়ে ব্যাংক খাতকে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেবে।










