সঠিক নীতিসহায়তা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে বাজারের আকার ৪৫-৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।

বর্তমানে টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনার বাজারের প্রধান পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন এরই মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার দখল করেছে। টিভি, রেফ্রিজারেটর, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, রাইস কুকার ও মোবাইল ফোনের বড় অংশ এখন দেশেই উৎপাদন বা সংযোজন হচ্ছে। এ খাতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ভ্যাট ও আমদানি শুল্কের মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে।

খাতটি বর্তমানে বেশকিছু কাঠামোগত সংকটে রয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কর, নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন, উচ্চ ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ, আমদানিনির্ভরতা এবং ডলার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কমপ্রেসরের মূল্যনির্ধারণ করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া ডলারের উচ্চমূল্য ও সংকটে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমছে।

এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কর ও শুল্ক কাঠামো সহজ করা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং প্রস্তুত পণ্যে উচ্চ শুল্ক বজায় রাখলে আরো শক্তিশালী হবে দেশীয় শিল্প। অবৈধভাবে আমদানি হওয়া পণ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্যাটের হার কমানো এবং সহজ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে সরকারের রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ইলেকট্রনিকস খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

Bazar-Ayoton-16-04-2026-Outline