তবে বর্তমান সময়ে সিমেন্ট শিল্প বেশকিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে অন্যতম হলো উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা এবং লজিস্টিকস ও পরিবহন ব্যয়ের অস্থিরতা। এছাড়া বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মূল্য স্থিতিশীলতার অভাবও শিল্পের মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে। ব্যাংক সুদের উচ্চহার, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগ ও উৎপাদন পরিকল্পনাকে আরো জটিল করে তুলছে।

এ সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। প্রথমত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীল মূল্যনীতি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। দ্বিতীয়ত, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা দরকার। তৃতীয়ত, লজিস্টিকস খাতে আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়া সিমেন্ট শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যাংক সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রযুক্তি গ্রহণে কর ছাড় ও প্রণোদনা প্রদান করা গেলে শিল্পটি আরো টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে দেশীয় সিমেন্ট শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রবাহও বাড়বে।

আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক নীতিগত সহায়তা ও বাস্তবসম্মত বাজেট পরিকল্পনার মাধ্যমে সিমেন্ট শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।