যদিও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, খাতটির সম্ভাবনাগুলো এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নেয়া কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এখনো খাতটির টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব।

বর্তমানে দেশে পাটচাষীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ২ শতাংশ উপার্জন হয় পাট ও পাটপণ্য রফতানি থেকে। যদিও একসময় পাট ও পাটজাত পণ্যই ছিল বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে মোট বৈদেশিক আয়ে পাটের হিস্যা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১ দশমিক ৮৮ শতাংশে।

বৈশ্বিক পাট উৎপাদনে একসময় শীর্ষস্থানে ছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে সে স্থান ভারতের দখলে। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও উৎপাদনে স্থবিরতা দেশের পাট শিল্পের অন্যতম প্রধান সংকট। নব্বইয়ের দশকে এ দেশে পাট চাষ হতো প্রায় ১২ লাখ হেক্টর জমিতে। ক্রমেই তা কমে এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পাট চাষ হয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৭৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪৭৪ বেল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭০ বেল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে পাট খাতের অন্যতম বড় সংকট হলো কাঁচা পাটের মূল্য অস্থিরতা ও কৃষকের নিরুৎসাহ। উৎপাদন মৌসুমে দাম পড়ে যায়। কিন্তু অফ-সিজনে হঠাৎ বেড়ে যায়। এ অস্থিরতা কৃষকদের পাট চাষে নিরুৎসাহিত করছে। ফলে উৎপাদন স্থিতিশীল থাকছে না এবং শিল্প খাতেও কাঁচামাল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও বাজার সংকট সৃষ্টি করছে। লোকসান ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে দেশের সরকারি পাটকলগুলোর অনেকই বন্ধ হয়ে পড়েছে। বেসরকারি খাত তুলনামূলকভাবে ভালো করলেও তাদের সক্ষমতা পুরো খাতকে টানার জন্য যথেষ্ট নয়। এ থেকে উত্তরণে সরকারি-বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতাও এখন অনেক বেশি। ভারত ও অন্যান্য দেশ ভর্তুকি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাট ও বিকল্প পণ্যের বাজার দখল করছে। একই সঙ্গে সিনথেটিক ফাইবার এখনো অনেক ক্ষেত্রে সস্তা হওয়ায় পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বাংলাদেশ সে সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহূর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর সংস্কার বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। অকার্যকর মিল বন্ধ রেখে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ উৎপাদন ইউনিট গড়ে তোলা হলে উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর প্রণোদনা ও সহজ ঋণ সুবিধা দেয়া যেতে পারে।