হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করছে।
তবে সম্ভাবনার তুলনায় এ খাতের অগ্রগতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প করতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মুখে পড়েন, কারণ ব্যাংক সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। হোটেল বা রিসোর্ট বানাতে দুই-তিন বছর লাগে, সেই সময়ের মধ্যে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। সরকারি পারমিশন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়াও জটিল। কর ও ভ্যাটের হারও অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে সীমিত করছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের সমাজের অনেকেই পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন নয়। কখনো কখনো সামাজিক বা ধর্মীয় সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশী পর্যটকের প্রত্যাশা পূরণ করা যায় না।
আমার সুপারিশ—বাজেটে যদি পর্যটন খাতের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ফান্ড রাখা হয় নতুন হোটেল, রিসোর্ট বা পর্যটন গন্তব্য তৈরি করা সহজ হবে। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সরল করা এবং কর-ভ্যাট কাঠামো যৌক্তিক করা হলে বিনিয়োগ আরো আগ্রহী হবে। নিরাপত্তা ও সেবা উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যদি পর্যটককে স্বাগত জানানোর মানসিকতাও গড়ে তুলি, তাহলে বিদেশী পর্যটক আরো আগ্রহী হবে। এছাড়া পর্যটন খাতের ব্র্যান্ডিংও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটক নিরাপদ বোধ করবে, সহজে সেবা পাবে, কোনো অসুবিধা ছাড়াই দেশ ভ্রমণ করবে। দেশে নতুন গন্তব্য তৈরি হলে পর্যটক বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর রাজস্বও বাড়বে।
বাজেটে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হলে পর্যটন খাত শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনবে না, দেশের ভাবমূর্তিকেও শক্ত করবে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেকসই, বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।










