দেশে এরই মধ্যে এ খাতে বড় বিনিয়োগ হয়েছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় শিল্পটি পুরো সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে উদ্যোক্তারা এমন একটি সহায়ক বাজেট প্রত্যাশা করছেন, যা উৎপাদন, রফতানি ও বাজার সম্প্রসারণ এ তিনটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রথমত, গ্লাস শিল্পের প্রধান কাঁচামাল (সোডা অ্যাশ, সিলিকা স্যান্ড, ডলোমাইট, লাইমস্টোন) আমদানিতে শুল্কায়ন বর্তমান বাজারমূল্যে করতে হবে, ট্যারিফ মূল্যের ওপর নয়।ভ্যাট কমানো অত্যন্ত জরুরি, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এ ব্যয় কমানো গেলে দেশীয় শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গ্লাস শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়া একটানা চলমান রাখতে হয়। ফলে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে উৎপাদন স্থিতিশীল হবে এবং শিল্পের আস্থা বাড়বে।
তৃতীয়ত, রফতানি খাতে প্রণোদনা বাড়ানো প্রয়োজন। দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকায় অতিরিক্ত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। এজন্য রফতানি ভর্তুকি, সহজ কাস্টমস প্রক্রিয়া ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে সরকারি সহায়তা জরুরি।
চতুর্থত, নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ালে গ্লাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বাড়বে। বড় বড় প্রকল্পে গ্লাসের ব্যবহার বাড়লে শিল্পের উৎপাদন ঘাটতি কমবে এবং বাজার স্থিতিশীল হবে।
সবশেষে, নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নির্ভর এ শিল্পে হঠাৎ কর পরিবর্তন বা নীতিগত অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তাই একটি পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব নীতি কাঠামোই গ্লাস শিল্পকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপ










