সাধারণত হাসপাতালের প্রকল্পগুলো অনেক বড় হয় এবং এগুলোর অর্থায়নও হয় দীর্ঘমেয়াদি। তাই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কীভাবে আমাদের সুবিধা দেয়া যেতে পারে, সে বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে আমাদের ঋণগ্রহণে সুদের হার অনেক বেশি। এ খাতে আমরা এখনও ১৫-১৬ শতাংশ সুদ দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে ১০ শতাংশের বেশি সুদ বহন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো সবার জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষায়িত হাসপাতাল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে কাজ চলছে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজের দিকেও অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই আমি মনে করি স্বাস্থ্য খাতে বাজেট আরো বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে আরো উৎসাহিত করতে হবে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন—আমাদের দেশে যেখানে মৌলিক স্বাস্থ্য শিক্ষার অভাব রয়েছে, সেখানে ডিজিটালাইজেশন তো অনেক দূরের কথা। দেশে কত শতাংশ মানুষ ক্যান্সার বা কার্ডিয়াক ডিজিজে আক্রান্ত, তাদের মূল কারণগুলো কী—এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। আমাদের ধীরে ধীরে একটি ইউনিভার্সাল হেলথ পলিসিতে যেতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে ‘ম্যান্ডেটরি হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ বা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমাদের কর-জিডিপি অনুপাতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, যা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাজ করতেই হবে। পাশাপাশি আমি মনে করি, করের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আমাদের বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, আমাদের একটি আয়মুখী বাজেট করা দরকার। আমরা যদি কেবল ব্যয়ের (এক্সপেন্ডিচারের) প্রতি আকৃষ্ট থাকি, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে সুফল আনবে না। আয়মুখী বাজেটের জন্য আমাদের রফতানির দিকে আরো মনোযোগী হতে হবে। বর্তমানে আমরা তৈরি পোশাক খাতের ওপর ৯০ শতাংশ নির্ভরশীল; এর বাইরে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফিশারিজ এবং এগ্রো প্রসেসিং খাতে ফোকাস বাড়াতে হবে।

চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর); ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার