উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের এ বাস্তবতায় আসন্ন বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ সক্ষমতা বজায় রেখে রাজস্ব আহরণের টেকসই পথ নির্ধারণ।
ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত সরল, এজন্য করহার যৌক্তিক করতে হবে। করের হার উচ্চ ও প্রক্রিয়া জটিল হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দেয়ার প্রবণতা কমে। বর্তমানে রাজস্ব আহরণের চাপ থাকলেও একই প্রতিষ্ঠানের ওপর বারবার অতিরিক্ত কর আরোপ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। এটি উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
করহার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোই দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কৌশল হওয়া উচিত। ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার ব্যবসার জন্য নিরুৎসাহজনক। এটি ৫ শতাংশের কাছাকাছি আনলে শুরুতে রাজস্ব কিছুটা কমলেও দ্রুত করদাতার সংখ্যা বাড়বে, যা সামগ্রিক রাজস্বে টেকসই প্রবৃদ্ধি আনবে। আমাদের বিশ্বাস, যৌক্তিক করহার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
উন্নত দেশের করনীতির উদাহরণ টানার সময় আমাদের নিজস্ব বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেয়া জরুরি। বিশেষ করে শিল্প খাতে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা প্রয়োজন।
ট্যাক্স রিফান্ড জটিলতা কর ব্যবস্থার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। অগ্রিম কর আদায়ের পর তা ফেরত পেতে বিলম্ব হলে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যায়। ন্যূনতম কর ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে তা পরবর্তী সময়ে সমন্বয়যোগ্য হয়।
অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে রাজস্বনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী, সেজন্য একটি সহায়ক নীতিগত পরিবেশ প্রয়োজন। করহার যৌক্তিক করা, করজাল সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে শুধু রাজস্বই বাড়বে না, অর্থনীতির ভিতও শক্তিশালী হবে।










