সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল এবং প্রযুক্তিপণ্যের মতো হাই-টেক শিল্প খাতে বৃহৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা জরুরি। সংযোজন (অ্যাসেম্বল) শিল্পে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) শিল্পে বৃহৎ বিনিয়োগকারীকে একই নীতির আওতায় রেখে স্থানীয় টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে আমদানিকারী, সংযোজনকারী ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌক্তিক শ্রেণীবিন্যাস ও শুল্ক পার্থক্য থাকা উচিত।
কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং স্থানীয় বৃহৎ শিল্প খাতের বিকাশে ফিনিশড গুডস আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বজায় রেখে কাঁচামাল, যন্ত্রাংশসহ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট উপকরণে শুল্ক-কর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। যারা দেশে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপন করছে বা করবে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক নীতিগত সুবিধা দেয়া উচিত। এর পাশাপাশি বাজেটে টেকসই ও গ্রিন টেকনোলজির পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষায় সরকারি ক্রয়নীতিতে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তা বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে এবং হাই-টেক পণ্য উৎপাদন শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশী ও বিদেশী বৃহৎ বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এতে স্থানীয় শিল্পে ভ্যালু অ্যাডিশন ও কর্মসংস্থান বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় কমবে, দেশে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং সাধারণ মানুষ আরো সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য হাতে পাবেন।
বর্তমান সরকারের ইশতাহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর দেশীয় হাই-টেক শিল্পায়নে বৃহৎ বিনিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তা প্রদানের বিষয়গুলো আসন্ন বাজেটে প্রাধান্য পাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।










