তবু দীর্ঘদিন ধরে এ খাতটি নীতিগতভাবে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি; বরং উচ্চ কর ও ফি কাঠামোর কারণে এর সম্ভাবনা বারবার সীমিত হয়েছে।
বর্তমান কর কাঠামোয় মোবাইল সেবার ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা সাধারণত নিরুৎসাহিত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর সঙ্গে রয়েছে উচ্চ করপোরেট কর। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, রাজস্ব ভাগাভাগি, স্পেকট্রাম চার্জ এবং লাইসেন্স ফি মিলিয়ে অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ কর ও ফি হিসেবে চলে যায়। ভারতে এ হার প্রায় ৩৫ এবং পাকিস্তানে প্রায় ২৯ শতাংশ।
উচ্চ করের চাপ ছোট অপারেটরদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলে এবং বাজারের প্রতিযোগিতার ভারসাম্যকে দুর্বল করে। বাংলালিংকের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রাজস্বের বড় একটি অংশ কর ও ফিতে চলে যাওয়ায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবা উদ্ভাবন এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে বিনিয়োগের সক্ষমতা সংকুচিত হয়।
এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কর ও ফি কাঠামো ধাপে ধাপে যৌক্তিক করা, সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করা, করপোরেট কর প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে আনা এবং স্পেকট্রাম মূল্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। পাশাপাশি লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে হবে, যাতে অপারেটরদের হাতে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে।
একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক কমানো, গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রণোদনা দেয়া এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও একীভূত করা প্রয়োজন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে, যা বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।










